সরকার কিলাইদং থেকে প্রমান মুছে ফেলার চেষ্টা করছে

মংডু,আরাকান।সরকার কিলাইদং এ রোহিঙ্গা গনহত্যা ও তাদের সম্পত্তি লুটের প্রমান মুছে ফেলতে
চাচ্ছে,উল্লেখ্য একজন সার্জেন্ট এর নিখোঁজ এর খবরে, নিরাপত্তা বাহিনী রোহিঙ্গাদের উপর গুলি
চালায় ও তাদের সম্পত্তি লুট করে।
১৪ জানুয়ারী থেকে রোহিঙ্গা নারী,পুরুষ,শিশুদের নিরাপত্তা বাহিনী(পুলিশ,লুন্টিন,আর্মি) এবং
রাখাইন মৌলবাদীরা হত্যা করছে। মৃতদেহগুলো রাখাইন গ্রামের পূর্ব পাশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে যাতে
তা লুকিয়ে ফেলা যায়।
তবে সঠিক হতাহতের ঘটনা এখনো জানা যায়নি। তবে অনেক গ্রাম বাসী ও পালিয়ে যাওয়া বাসিন্দারা
বলছেন ৪০০ জনের অধিক গ্রামবাসী যাদের মধ্যে শিশু ও নারী ছিলেন তাদের পাওয়া যাচ্ছে না।
কিছু রাখাইন গ্রামবাসী- উ বা ক, উ অন তা প্রু, উ অং বালা, উ মং সে লা,একজন বৌদ্ধ
ভিক্ষু ও অন্যান্য রাখাইন গ্রামবাসীরা এই সমস্ত মৃতদেহ নিয়ে গিয়ে খালে লুকিয়ে ফেলছে।
এছাড়া ২০ জানুয়ারী পুলিশের সামনেই রাখাইনরা বাঁশ,কাঠের পাত নিরাপত্তা বাহিনীর সামনেই
নিয়ে যাচ্ছে এবং গ্রামবাসীদের প্রবেশে বাঁধা দিচ্ছে।কতৃপক্ষ গ্রামবাসীদের বলেছে,তারা যদি সার্জেন্ট
এর মৃতদেহ ও পিস্তল ফেরত না দেয় কতৃপক্ষকে তবে তাদের গ্রাম থেকে বের হতে দেওয়া হবে না।
এছাড়া ১৯ জানুয়ারী রাত ১১টার দিকে মংডু তিন মাইল আমবাগানের নিকটে একটি রাখাইন মৃতদেহ
ফেলে রাখতে চাইলে গ্রামবাসীরা তাদের বাঁধা দেয় ফলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ সৃষ্টি হয় নি। স্বাভাবিকভাবে
মৃত্যুবরণকারী রাখাইনদের মৃতদেহ রোহিঙ্গা গ্রামে রেখে এসে তারা উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ সৃষ্টি করতে
চাচ্ছে।
এছাড়া জানুয়ারী ১৮,রাত ১০টার দিকে ৫০ জন ম্রু গ্রামবাসী লম্বা তলোয়ার নিয়ে রোহিঙ্গাদের গ্রামে যান
যা কলিজা ভাঙ্গা নামে পরিচিত এবং তা আক্রমন করতে চান। কিন্তু রোহিঙ্গারা পূর্বে জানতে পারে নিরাপত্তা
বাহিনী ও শহর প্রশাসনকে অভিহিত করে ফলে তারা আর হামলা চালাতে পারে নি।
এছাড়া কিলাইদং এর ঘটনার পর অজানা চেহারার কিছু রাখাইন অং মিং গালা(কাসিম রাজার পাহাড়) এ
মঠে প্রার্থনা করতে যায় এবং রোহিঙ্গা গ্রাম সমূহের অবস্থা পর্যবেক্ষন করেন বিশেষ করে পাওয়েত চং,
মং নামা ও কাওয়ার বিল এর। গ্রামবাসীরা মনে করছে হয়ত রাখাইনরা আরো বেশী সমস্যা সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন
রোহিঙ্গাদের জন্য।
বৌদ্ধ ভিক্ষু সায়াদো ভিরাথু যিনি ৯৬৯ আন্দোলনের প্রবক্তা তার নেতৃত্বে বৌদ্ধ উগ্রপন্থীরা রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন চালাচ্ছে
ও আরাকানে আরো দাঙ্গা সৃষ্টি করতে পারে।
প্রেসিডেন্ট থিন সেন আইনী উপায়ে দাঙা সৃষ্টি করছে এবং বাস্তবতা থেকে দুরে সরে যাচ্ছে কারণ এটির
সাথে রাজ্য জড়িত।
রোহিঙাদের একজন রাখাইন পুলিশ হত্যাকাণ্ডে হাত আছে, এই অজুহাতে তারা রোহিঙ্গা গ্রামবাসী এবং নিরাপত্তা
বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়েছে ও তাদের হাতে অনেক রোহিঙ্গা মারা গেছেন।
যদি আর্ন্তজাতিক তদন্ত হয় তবে তারা বুঝতে পারবে কিভাবে নিরাপত্তা বাহিনী ও রাখাইনরা রোহিঙ্গাদের উপর
নির্যাতন চালাচ্ছে এবং সমস্ত প্রমান মুছে ফেলছে। সরকার জানে কিভাবে প্রমান মুছে ফেলতে হয় হুমকি দিয়ে,
মন্তব্য করেন একজন ব্যবসায়ী।

Leave a Reply