একটি সরকারঃদুই রকম বক্তব্য

মংডূ,আরাকান।থিন সেন এর সরকার এর দুই মন্ত্রী রোহিঙা ইস্যু নিয়ে দুই রকম মন্তব্য দিয়েছে বলে জানান
একজন রাজনীতিবিদ যিনি তার নাম প্রকাশ করতে চান নি।
“দ্য হিন্দু” পত্রিকার সাথে এক সাক্ষাৎকারে বার্মা তথ্যমন্ত্রী উ অং কি বলেন,তার সরকার সকল গোত্রের সাথে
কাজ করছে এবং মুসলিম রোহিঙাদের রাষ্ট্রহীনতা যে তাদের এখানে কষ্ট পাওয়ার প্রধান কারণ তা তিনি স্বীকার
করেন,এবং ডেইলি টেলিগ্রাফ এর ১ নভেম্বর এ প্রকাশীত।”
“স্থানীয় রাখাইনরাও এটি বিশ্বাস করে এবং আমরা সবার জন্য ভাল এরূপ একটি সমাধান পাওয়ার লক্ষ্যে কাজ
করে যাচ্ছি।”
“রোহিঙাদের নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্ছিত করা হয়েছে এবং এর সাথে অন্যান্য অধিকারও তারা পাচ্ছে না।”
“সরকার বলছে তারা তাদের তথাকথিত ৩য় প্রজন্মের রোহিঙাদের নাগরিক অধিকার প্রদান করবে যারা
বার্মিজ আইন অনুযায়ী এটি পাবে,কিন্তু অন্যান্য সরকার তা তাদের দেয় নি।”
কিন্তু মিয়ানমার পোস্ট এর দুই নভেম্বর এ অভিবাসন মন্ত্রীঈ উ খিন ইয়ে বলেন যে,নতুন কাউকে যাদের
রাষ্ট্র নেই কোন তাদের কোন নাগরিকত্ব দেওয়া হবে না।”
“যারা ১৯৪৮ এর আগে থেকে বার্মাতে বাস করছেন তাদের সাদা কার্ড দেওয়া হবে,এবং আদমশুমারীর জন্য তাদের
প্রমান দেখাতে হবে,না হলে তাদের বিরূদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কুটনৈতিক সুত্র জানিয়ছে যে,সরকার ৩য় প্রজন্মের রোহিঙাদের নাগরিকত্ব প্রদান করছে কিন্তু যারা আগে থেকে এখানে
বাস করছে যাদের রাখাইনরা বাংলাদেশী বলে বলছে তাদের ব্যাপারে কি সিদ্বান্ত নিবে।”
তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন রোহিঙাদের উপজাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে কিন্তু রাখাইনদের বিরোধিতার কারণে
তা সম্ভব হচ্ছে না।
মিয়ানমার পোস্ট জার্নালের মতে উ খিন ইয়ে বলেছেন যে,বার্মাতে স্বাধীনতার পর যারা বাস করছে এবং লিস্ট বা নিবন্ধনে নাম নেই,
তাদের ব্যাপারে জাতীয় নিরাপত্তাতে খোঁজ নেওয়া হবে এবং যদি কোন কিছু ভুল প্রমানিত হয় তবে তাদের সাদা কার্ড দেওয়া হবে না।”
“যাদের কাছে প্রমান নেই তারা দীর্ঘদিন ধরে বাস করছে না,তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে না।”
এছাড়া যারা তাদের ঘর থেকে পালিয়ে গিয়েছে জীবন বাঁচানোর জন্য তাদের জন্য মংডুর তংব্রুতে একটা ক্যাম্প এ পাঠানো হবে বলে জানান
উ অং ম্রা কাউ,যিনি আরাকানের এর সংসদ সদস্য।
সরকারী কর্মকর্তারা রোহিঙাদের উপর ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছে,বার্মিজ বক্তব্যে তারা রোহিঙাদের বিরোধিতা করে আবার ইংরেজী বক্তব্যে দেখা যায়
তারা রোহিঙাদের পক্ষে।
“রাষ্ট্রপতির অফিস বলেছে সরকার থেকে প্রমান আছে,কারা রোহিঙাদের নিধনের পিছনে আছে।”বলে জানান একজন রোহিঙা নেতা।

Leave a Reply