মিন বা ও মারুক ইউতে এ কারফিউ জারী

মিন বা,আরাকান।বার্মাতে স্থানীয় কতৃপক্ষ মিন বা ও মারুক ইউতে কারফিউ জারি করেছে 
,উল্লেখ্য  সম্প্রতি শূরু হওয়া সহিংসতার জের ধরে এই কারফিউ জারী করা হয়েছে।
উল্লেখ্য গত ২১ অক্টোবর রাত সাড়ে দশটার দিকে এই সহিংসতার সূচনা ঘটে এবং

তা মারুক ইউতে ছড়িয়ে পড়ে যা ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত স্থায়ী ছিল।
কার্ফিউ গত ২২ অক্টোবর সন্ধ্যা সাতটা থেকে পরদিন সকাল পাঁচটা পর্যন্ত স্থায়ী ছিল,
এবং সাম্প্রদায়িক দাঙা যা একতরফা ছিল তাতে অনেক রোহিঙা মারা যায় ও একশর
বেশী ঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত ১০ জুন কেন্দ্রীয় সরকার রাখাইন ও রোহিঙাদের মধ্যে সহিংসতার জের ধরে  ৯টি
উপজেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছিল কিন্তু দুই মাস পর মিন বা ও মারুক ইউ থেকে
কারফিউ তুলে নেওয়া হয়।
মিনবা আরাকান থেকে ২৫ কিমি দূরে অবস্থিত।
আরাকান রাজ্যের এটর্মী জেনারেল লা তেন জানান একজন রাখাইন ও দুইজন রোহিঙা নারী
মারা গিয়েছেন এবং আরো ৩৪০টি ঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ফলে,তিনি আরো
জানান একজন রোহিঙা এটি শুরু করেন এবং সরকার পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রনে নিয়ে এনেছে।
কিন্তু স্থানীয়দের মতে প্রায় এক হাজার এর মত রোহিঙাদের ঘর বাড়ি পুড়ে গিয়েহে এবং প্রায়
৮০০ রোহিঙা মারা গিয়েছে ও আরো অনেকে আহত হয়েছে।কিন্তু সরকারী মিডিয় বলছে যে,
রাখাইন সন্ত্রাসীরা নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশ এর সহায়তায় রোহিঙা গ্রামসমূহে হামলা চালিয়েছে।
"কতৃপক্ষ যদিও বলছে যে পরিস্থিতি এখন শান্ত কিন্তু অনেক রোহিঙা তাদের বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে
যাচ্ছে তাদের প্রান বাঁচানোর জন্য।
গত ২৩ অক্টোবর প্রায় ৫০টি ঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে মারুক ইউ গ্রামে বলে জানান
একজন পুলিশ।
একই দিন উ তা লু চায় ও ম্রা অং মারুক ইউ গ্রামে লুন্টিন এর ১২ নং ব্যাটেলিয়ন নিয়ে পরিস্থিতি
পর্যবেক্ষন করতে যান ,মন্ত্রীরা লুন্টিন কে রোহিঙ্গা গ্রামসমূহের উপর হামলা চালাতে বলেন এবং
এতে প্রায় ২০০ জন গ্রামবাসী নিহত হন বলে জানান মারুক ইউ এর একজন।
এছাড়া গত ২৩ অক্টোবর ক্যক প্রুতে রাখাইন গুন্ডারা রোহিঙা গ্রামে হামলা চালায় এবং এতে অনেক
বাড়ী পুড়ে যায় ,এছাড়া একটি মসজিদ ও ধব্বংস করা হয়,গ্রামবাসীদের নিরাপত্তা না থাকায় তারা
পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
প্রায় ১৫০০ এর বেশী রোহিঙা সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় আসে এবং তাদের কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই
এবং অনেককে সমুদ্রতীরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে,এখন রাখাইনদের সহযোগীতায় সরকার তাদের হত্যার
পরিকল্পনা করছে,এবং প্রায় ৫টা মসজিদ পুড়ে গিয়েছে।
মেয় বোন শহরে কোন গ্রাম পুড়ে যায় নি।
উ লা থেন বলেন যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করা সহজ নয়।
"যদি কতৃপক্ষ উদ্যোগী হয় তবে আধা ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব,কিন্তু কতৃপক্ষ নিজেই রাখাইন
দের রোহিঙ্গাদের উপর আক্রমন চালাতে প্ররোচিত করে।
এটা অনেক দূঃখজনক যে,রাখাইনরা রোহিঙাদের উপর ভারী অস্ত্র নিয়ে হামলা চালাচ্ছে এবং রোহিঙারা 
তাদের ঘরে বন্দী জীবন যাপন করছে,রোহিঙাদের কাছে কোন অস্ত্র নেই এবং তাদের কাছে কোন ছুরিও
নেই তারা খাদ্য সমস্যায় বাস করছে।
বার্মার সামরিক সর্মথিত তথাকথিত গনতান্ত্রিক সরকার জাতিসংঘ এর অভি্যোগ উড়িয়ে দিয়েছে এই বলে যে
বার্মাতে কোন মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে না।
রোহিঙারা ইউএন কতৃক নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের মধ্যে সর্বোচ্চে বলে বিবেচিত হচ্ছে।
মারুক ইউ এর একজন তরুন জানান,আমরা চলাফেরা করতে নানাবিধ সমস্যার মুখে পড়ছি এবং পুলিশ,লুন্ঠিন,নাসাকা
আমাদের নির্যাতন করছে।
প্রেসিডেন্ট থিন সেন  অক্টোবর ২১ এ বলেন যে,মিয়ানমার এর রোহিঙাদের জন্য আর্ন্তজাতিক সাহায্য গ্রহন বা অবরোধ
এর মুখোমুখি হওয়া ছাড়া উপায় নেই।

Leave a Reply