উত্তর আরাকানের সর্বশেষ অবস্থা

বুতিদংঃ
নাসাকা ৯ নং এরিয়ার প্নিউ লেক গ্রামের মোগল আহমেদ এর ঘর গত ১৯ আগস্ট আর্মি দুপুর একটার দিকে লুট করে,তারা
২০ মিলিয়ন ক্যত ও ৫০ ভরি স্বর্ন নিয়ে যান।
আগস্ট ৭ ও ৮ তারিখে কিং দং গ্রামে  ৬ জন মেয়ে যাদের মধ্যে মহিলারাও ছিলেন তাদের আর্মি ধর্ষন করে,তারা হলেনঃ
মোস্তাফা খাতুন(৩৫),ফেমানী(৪০),নুর আয়েশা(১৮),ইসহাক এর স্ত্রী আফাম(২০),রফিক কাদের এর কন্যা আমিনা(১৬),
খালেদ হুসেন এর স্ত্রী তাসনিমা।এছাড়া তারা আঞ্জুম (৩৫) সৈয়দ আলমের স্ত্রীকে মারধোর করে কারণ তিনি আর্মির তাকে ধর্ষনের
চেষ্টা বাধা দেন।
গত জুন আট তারিখ হতে আর্মি নাসাকা লুন্ঠিন ধর্ষন  করেছে অনেক রোহিঙা তরুণী ও মহিলাকে।
জররী অবস্থা ও ১৪৪ ধারার সুবিধা নিয়ে তারা একা করেছে,কিন্তু অবাক করার বিষয় হল জরুরী অবস্থা কেবল রোহিঙ্গাদের
উপর প্রযোজ্য রাখাইনদের উপর না,তাই তারা রোহিঙ্গাদের উপর পুলিশ,আর্মির সাহায্যে হামলা চালাচ্ছে।
মংডুঃ
গত ২৩ আগস্ট সকালে উত্তর মংডুর গদোসারা গ্রামের বাসিন্দা একজন নারী ও তার ছেলে নাসাকার গুলিতে মারা যান,প্রথমে
নাসাকা উক্ত নারীর মালিকানাধীন একটি গরুকে গুলি করে,যখন উক্ত নারী ঐ গরুটি উদ্ধার করতে যায় তখন তাকেও গুলি করা হয়,এই সময় তার ছেলে তা দেখে তার মাকে  বাঁচাতে আসলে তাকে গুলি করে মারা হয়।কাওয়ার বিল নাসাকা সদরের
প্রধান হিসেবে লে কর্নেল মং মং ওকে নিয়োগ দেওয়ার পর থেকে নাসাকা রোহিঙাদের গুলি করে মারছে পাখির মত।
২২ আগস্ট সন্ধ্যায় একদল রাখাইন গুন্ডা একজন রোহিঙা তরুণকে ছুরিকাঘাত করে পুলিশের সামনে।
এছাড়া গত ২২ আগস্ট সকালে সাদেক(১৫) নামের একজন রোহিঙ্গা তরুণ তার আত্নীয়কে এক বাক্স খাবার দিতে গেলে
তাকে রাখাইন গ্রামবাসীরা আটক করে তার কাছ থেকে খাবার ছিনিয়ে নেয়,তাকে তার গ্রামে ফেরত পাঠানো হয়।পরে নাসাকা
সব খাবার খেয়ে ফেলে খাবারের বাক্স মাঠে ফেলে দেয়।
এছাড়া গত ২২ আগস্ট সন্ধ্যায় একজন রোহিঙা তরুণকে রাখাইনরা ছুরিকাঘাত করে যখন সে রিকশা করে মংডু শহরে
যাচ্ছিল জানান একজন তরুণ।
এছাড়া আমরান(১৬) পিতা আবুল কালামকে নাসাকারা আটকিয়ে রাখে এবং তার সাথে থাকা বাইসাইকেল ছিনিয়ে নিয়ে
তাকে মারধোর করে,সে তার আত্নীয়ের বাড়িতে যাচ্ছিল।
রোহিঙ্গা গ্রামগুলোর মাঝে একটি করে রাখাইন গ্রাম থাকায় নাসাকারা প্রায় সেখানে অবস্থান নিয়ে থাকে এবং রোহিঙ্গাদের দেখলে তাদের আটক বা মারধর করে,তারা অর্থ,মালপত্র ছিনিয়ে নেয়।
এছাড়া ২৩ আগস্ট নাতালা গ্রামবাসীরা পিলার ও গাচগ ইইয়া কো দ্যান মাদ্রাসা থেকে তুলে নেয়,আর্মি নাতালা গ্রামবাসীদের সবধরনের সুভিধা দিচ্ছে বলে জানাই গ্রামবাসীরা।
২১ আগস্ট একজন রোহিঙা তরুনকে সে জার গ্রামে রাখাইন তরুনরা মারধোর করে ব্রীজ এ ফেলে রাখে,এর পর তারা পালিয়ে
যায়,এই সময় তাদের সামনে পুলিশ ছিল,এর পর নাসাকার পেট্রোল কারা এসে আহত ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে মংডু হাসপাতালে
ভর্তি করায়।
এছাড়া ৫ নং নাসাকা এরিয়ার কর্মকর্তারা গত ২১ আগস্ট ফকিরদের থেকে চাল ও মরিচ হাতিয়ে নেয় এছাড়া ব্রী পাড় করেছে
যারা তাদের থেকে ৫০০ ক্যত করে আদায় করে।
একইভাবে ৬ নং নাসাকা এরিয়ার কর্মকর্তারা যারা লেটপু গং নারী ব্রীজ অতিক্রম করে তাদের থেকে টাকা আদায় করে।
যারা অর্থ দিতে পারে না তাদেরকে আটক করে ক্যাম্পে জোরপূর্বক কাজ করানো হয় এবং পরে তাদের বিকাল ৫টাতে ছেড়ে দেওয়া হয়।
রোহিঙাদের সন্ধা ৫টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত কারফিউতে রাখা হয়,যখন মানুষ অনেক কাজে বের হয়,লুন্ঠিন,পুলিশ,আর্মি
ও মগ তাদের রাস্তায় নির্যাতন করে,রোহিঙ্গাদের মানুষ হিসেবে গন্য করা হয় না এবং তাদের সাথে পশুর মত আচরন করা হয়।
আগস্ট ২২ তারিখে সকালে একদল রাখাইন নারী ও শিশুদের মুসলিম ড্রেসআপে মংডূ প্রদক্ষিন করিয়ে ছবি তুলা হয়,যাতে
আর্ন্তজাতিক কমিউনিটিকে বুঝানো যায় রোহিঙ্গারা ঈদ পালন করছে ।
কতৃপক্ষ রোহিঙাদের মসজিদে বা বড় মাঠে ঈদের নামাজ পড়তে মানা করে,তাই রোহিঙারা উত্তর আরাকানে ঈদ উৎসব পালন
করতে পারছে না।
এছাড়া  সামরিক গোয়েন্দারা উত্তর মংডুতে ঈদের দিন গিয়ে রোহিঙাদের জোর পূর্বক ছবি তুলে বিভিন্ন ভাবে এটা দেখানোর জন্য মংডূতে কোন ধর্মীয় বিধিনিষেধ নেই।
এছাড়া ১৯ আগস্ট নাসাকা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সলুকে গ্রেফতার করে,তার সাথে আরো ৬ জন ছিল,তারা সবাই মং নামা গ্রামের বাসিন্দা,তাদেরকে একটি হাতির পাল কে সরিয়ে দেবার জন্য গ্রেফতার করা হয়,যা তাদের মাঠ এর ফসল ধব্বংস করছিল।
পরে ২০০০০ ক্যত দেওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
নাসাকা আরো ৬ জন রোহিঙ্গাকে মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতার করে ,পরে ১০০টি করে বাশ আদায় করে প্রত্যেকের থেকে
তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়,তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা রাখাইনদের গ্রাম ধব্বংস করতে গিয়েছিল।
রোহিঙাদের তাদের নিজেদের খেত খামারও রক্ষা করতে পারছেন না,এছাড়া গত ২১ আগস্ট ১২ জন,২৩ আগস্ট ৪ জন
২৪ আগস্ট ৮ জনকে নাসাকা গ্রেফতার করে,এরপর তাদেরক্ব মারধোর করে নাসাকা ক্যাম্পে পাঠানো হয়,জানান একজন
স্থানীয় মুরুব্বি।
আগস্ট ২২ তারিখে রাখাইনদের ৫টি দল হন্সআরা গ্রামে গিয়ে গাছ কাটা শুরু করে ও বেড়া ভেঙ্গে দেয়,তাদের সাথে তলোয়ার
ছিল এবং পুলিশ লুন্ঠিন ছিল তাদের সাথে।
এচজাড়া গত ২১ আগস্ট থেকে মগ,পুলিশ,নাসাকা রোহিঙ্গাদের আটক করছে,কিন্তু ২৪ আগস্ট কানপু গ্রাম থেকে ৪ জন
গ্রামবাসীকে নাসাক গ্রেফতার করে।
এছাড়া ২৩ আগস্ট  দুইজন রোহিঙাকে সে জার গ্রামে রাখাইনরা মারধোর করে বলে জানান একজন ব্যক্তি।
হাকিম আলি, যিনি সামবালা গ্রামের বাসিন্দা এবং আব্দু শরীফ যিনি বালু খালী গ্রামের বাসিন্দা,তাকে আর্মিরা মারধোর করে,কারণ তাদেরকে তারা কোন নারী ও তরুনী প্রদান করে নি।
আগস্ট এর ২৩ তারিখ ফকিরা বাজারে মগরা আগুন ধরিয়ে দেয় এবং এর মধ্যে ৩টি বড় বড় কাপড়ের দোকান ও ছিল।
এছাড়া মংডূ কাকালি গ্রামের ব্রীজের নিচে দুটি মৃতদেহ পাওয়া যায় যাদের পরিচয় চিহ্নিত করা হয় নি,পুলিশ মনে করছে তাদের
সম্প্রতি হত্যা করা হয়েছে।
এছাড়া ২২ আগস্ট আর্মি গদোরা গ্রামের একটি দোকান পুড়িয়ে দেয় এবং দুইটি ছাগল নিয়ে যান।
এছাড়া উত্তর মংডূর প্রতি গ্রাম থেকে ৫ জন করে গ্রামবাসীকে নাসাকা ট্রেনিং দিচ্ছে যাতে তদন্ত কমিশনের সামনে তারা কথা বলে
এতে গ্রামবাসীরা অনেক মন খারাপ করেছে,কারণ তারা প্রায় সবাই নাসাকার সহযোগী।
রতিদংঃ
থারাপিন,প্রিংকন,থামি লা,সাঙ্গো দং গ্রামের বাসিন্দারা দো সা পাড়া ও সিল্কিলি গ্রামে এক মাস ধরে আশ্রয় নিচ্ছে এবং এখন
তারা খাদ্য ও আশ্রয় সমস্যায় ভুগছে।তাদেরকে কোন খাদ্য দেওয়া হয় নি,এবং তারা এনজিও ও সাহায্যকারীদের সাহায্য চাচ্ছে ,তানা হলে তারা মারা যাবে জানান একজন তরুন।

Leave a Reply