২৭ জুলাই,২০১২ সর্বশেষ সংবাদ

রোহিঙ্গা গ্রাম সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে,রোহিঙ্গাদের আটক,নির্যাতন ও জেলে পাঠানো হচ্ছে
রতিদং
গত ২৫ জুলাই সকাল ৯টার দিকে একদল আর্মি স্থানীয় রাখাইন্দের সহায়তায় কং দান গ্রাম এর রোহিঙ্গাদের
বের করে দিয়েছে,ঐ গ্রামে ৫০টি পরিবার ছিল ,বৃষ্টির জন্য বৃদ্ধ ও শিশুরা খারাপ অবস্থায় পড়েছে,এবং
তাদের জোর করে আর্মি বের করে দেয়।
গ্রামবাসীরা পাশের তিনটি রোহিঙ্গা গ্রাম সোয়ার্প প্রাং ,অক নানরা গন ও প্রিং দং গ্রামে আশ্রয় নেয়।
আর্মি রাজাবিল গ্রামে গত ২৫ জুলাই থেকে ক্যাম্প স্থাপন করেছে যেদি পিন মঠে অবস্থান নিচ্ছে।তারা
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করছে।
এখন সরিয়ে দেওয়া গ্রাম বাসীরা খাদ্য,বাসস্থান ও ওষুধের সমস্যায় পড়েছে।
সরকারী কর্মকর্তাদের মতে রতিদং শহরে ৪টি শরনার্থী ক্যাম্প রাখাইনদের জন্য স্থাপন করা হলেও
রোহিঙাদের জন্য কোন ক্যাম্প স্থাপন করা হয় নি এবং রোহিঙ্গাদের জন্য কোন শরনার্থী সেন্টার ও নেই।
শহরের রাখাইনদের ডেকে এনে ঐ ক্যাম্পগুলোতে রাখা হয়েছে,যাতে উপরের পক্ষের কর্মকর্তাদের দেখানো
যায় এখানে শরনার্থী আছে এবং আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায় থেকে সাহায্য পাওয়ার আসায় এরূপ করা হয়েছে।
৪টি রোহিঙা গ্রাম পুলিশ,লুন্ঠিন স্থানীয় রাখাইনদের সহায়তায় পুড়িয়ে দিয়েছে এবং প্রোপাগান্ডা
ছড়াচ্ছে যে রোহিঙা রাখাইনদের উপর এরূপ করছে এবং তা বুঝানোর জন্য রাখাইনদের ক্যাম্পে রাখা হয়েছে।
গত ১০ জুন সরকার আরাকান রাজ্যে ১৪৪ ধারা জারি করা হয় এবং সরকার গত ৮ জুন কারফিউ জারি করে।
একজন সরকারী কর্মকর্তা বলেন যে,এখন পরিস্থিতি শান্ত,কিন্তু এটা শুনে একজন রোহিঙ্গা গ্রামবাসী প্রশন করেন,
যদি পরিস্থিতি এত শান্ত হয় তবে রোহিঙ্গাদের ধরপাকড় ও গ্রামবাসীদের উচ্ছেদ এর দরকার কি?
গত ২১ জুন রতি দং গ্রামের থেরা পিং গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া হয়,এর মধ্যে ১৫৫ ঘর ছিল যার মধ্যে ১০০টী পুড়িয়ে
দেওয়া হয়,এছাড়া থামি লা ১৪ জুন পুলিশ পুড়িয়ে দেয়,লুন্ঠিন ও আর্মি স্থানীয় রাখাইনদের সহায়তায়  প্রিং দং
কুদু চং ও সাও পিন গ্রাম পুড়িয়ে দেয়।
মংডূঃ
ফজলুল হকের পুত্র মো জহির(২৮) যিনি মংডুর মং নি গ্রামের বাসিন্দা তাকে নাসাকা গতকাল সাড়ে ৫টার দিকে গ্রেফতার করে
তাকে মারধোর করা হয় যথেষ্ট এবং গ্রামবাসীরা আশঙ্কা করছে যে সে মারা যাবে।
এছাড়া গ্রামবাসীদের চাল কিনতে দেওয়া হচ্ছে , আশঙ্কা করা হচ্ছে মানুষ উপবাসে মারা যাবে।
সরকারী কর্মকর্তা জানান,পরিস্থিতি শান্ত হলে জরুরী অবস্থা তুলে নেওয়া হবে,প্রকৃতপক্ষে এখন কোন  ঘটনা হচ্ছে না কেবল
সরকার রোহিঙ্গাদের কোন কারণ ছাড়াই গ্রেফতার করছে এবং রাখাইন নেতারা স্থানীয় রাখাইনদের নির্দেশ দিয়েছে
যাতে তারা রোহিঙাদের কোন কিছু বিক্রি না করে।
এছাড়া গত কয়েকদিন সরকারী কর্মকর্তা অনেক রোহিঙ্গাদের আটক করেছে তাদের বৈঠকে ডেকে পাঠিয়ে,
গত ২২ জুলাই নাসাকা এরিয়া নম্বর ৬ থেকে ৫ জন ধর্মীয় নেতাকে আটক করা হয়,তাদের বুতিদং জেলে পাঠানো হয়।
এছাড়া বাগনা গ্রামের গ্রাম প্রশাসক মো জুহর ও সদস্য সায়েদ আলমকে ২৬ জুলাই গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ অফিসার থান তা সায়েদ কাসিম মিতগি গ্রামে গ্রামবাসীদের প্রতিদিন নির্যাতন করছে।
বুতিদংঃ
বুতিদং জেলে ৩১ জন কয়েদি মারা গেছে,তাদের মারা যাওয়ার কারণ কতৃপক্ষের নির্যাতন বলে চিহ্নিত
করা হয়েছে।মংডূ ও বুতিদং থেকে প্রায় ৫৭২ জন রোহিঙ্গাকে গ্রেফতার করা হয়,তাদের অধিকাংশকে
মারধোর করা হয় এবং তাদের খাদ্য ও পানি ছাড়া রাখা হয় ফলে তারা মারা যান।এছাড়া অনেকের কাছে
কাপড় ও নেই,এছাড়া নিহতদের অনেকের মৃতদেহ পরিবারের সদস্যদের ফেরত দেওয়া হয় নি।
এছাড়া রোহিঙ্গারা তাদের ঘর থেকে বের হয়ে যেতে পারছেন না এবং তারা খাদ্য সংগ্রহ করতে যেতে পারছেন
না অন্য জায়গা থেকে,গত জুন থেকে অনেকটা তারা খাচায় জীবন যাপন করছে এবং চাইলে যে কোন সময়
কতৃপক্ষ তাদের নির্যাতন করতে পারে।
সরকারী কতৃপক্ষ রোহিঙ্গাদের হত্যা করছে ,সিতোয়ে বা আকিয়াবে দাঙা শুরু হবার পর থেকে রোহিঙ্গারা মার্কেট
থেকে খাদ্য কিনতে পারছেন না এবং শিশু ও বৃদ্ধরা খাদ্য ও ওষুধ সমস্যায় ভুগছেন এবং রোহিঙ্গা মার্কেট থেকে কিছু
কিনতে পারছেন না এবং রোহিঙ্গাদের জীবন বাচাতে আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়ের অতি শীগ্রই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.