উত্তর আরাকানের সর্বশেষ সংবাদ

৮ জুলাইঃ
মংডূঃ
৮ জুলাই ৩৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল যাতে কোন রোহিঙা এমপি ছিল না তারা মগ ও নাতালা গ্রামবাসী অধ্যষিত এলাকায় ত্রান বিতরন করেন
,উক্ত দলের নেতৃত্বে ছিলান তুরা স মেন,তারা রোহিঙ্গাদের গ্রামসমূহ পরিদর্ষন করেন নি বা ত্রান বিতরন করেননি বলে জানান,মংডুর একজন।
মংডূ শহরে কিছু বৌদ্ধ শরনার্থী আছে যাদেরকে বার্মা হতে উত্তর আরাকানে আনা হয়,৮ জুলাই কিছু নাতালা গ্রামবাসীদের ঘর রোহিঙারা
পুড়িয়ে দিলে তারা নাসাকা ক্যাম্প ও মঠে আশ্রয় নেয়।আর্ন্তজাতিক প্রতিনিধিদল আসলে তাদের কেবল মাত্র বৌদ্ধদের দেখানো হয়,এছাড়া
নাসাকা ও আর্মি নাতালা গ্রামবাসীদের বুতিদং রতেদং থেকে মংডূ শহরে নিয়ে আসে।”
রোহিঙারা তাদের গ্রামে রয়েছেন এবং সেখান হতে তারা বের হতে পাচ্ছেন না,নাসাকা ,পুলিশ,লুন্ঠিন ও রাখাইনরা তাদের হত্যা করছে,এছাড়া
প্রতিদিন অনেক শিশু,প্রসুতী নারী,আহত রোগী ও অন্যান্য অসুখে আক্রান্ত ব্যক্তিরা মারা যাচ্ছেন,এছাড়া রোহিঙারা নিজেদের ঘরেই শরনার্থী
হয়ে গিয়েছেন,কিন্তু বাইরের মানুষরা তা দেখতে পারেন না।
পুলিশ,লুন্ঠিন,নাসাকা,আর্মি ও রাখাইন গুণ্ডারা হত্যা,আটক,ধর্ষণ,ধব্বংসলীলা চালাচ্ছে এবং রোহিঙাদের সম্পত্তি ধব্বংস করছে।
নাসাকা গতকাল সেজার এর গুনার পাড়া গ্রাম থেকে সকাল দশটায় ১৮ জন কিশোরকে গ্রেফতার করে,গ্রেফতারকৃতরা হলেন,বাসের-পিতাঃফজল,
আব্দুর রাজ্জাকের পুত্র আজাদ,শামসুর ছেলে আমান উল্লাহ,তার ভাই আনোয়ার সাদেক,নুর আহমেদ এর পুত্র লালা,হুসেন আহমেদ এর পুত্র আনোয়ার
সাদেক,আব্দুল জলিল এর পুত্র ইসমাইল,কালা মিয়ার পুত্র সাদেক হুসেন,হুসেন এর ছেলে ফায়াজ,দিল মোহাম্মদ এর পুত্র মো রফিক,দালির পুত্র
ইয়াসিন,আমিরুদ্দিন এর পুত্র নুর আলম,হামিদ এর পুত্র ইসহাক,সিরাজ খান,মফিজ,আজিজুর রহমান,দিলু।
এছাড়া রোহিঙা গ্রাম থেকে তরুনী রোহিঙাদের অপহরন করার অপচেষ্টা চালায় রাখাইনরা,কারণ গ্রামের পুরুষেরা আটকের ভয়ে লুকিয়ে ছিল,
তরুণীদের চিৎকার শূনে রোহিঙা পুরুষরা ফিরে এসে তাদের উদ্ধার করে।
এছাড়া সিকদার পাড়া থেকে কাউয়ার বিলে যাওয়ার সময় নাসাকা বাহিনী দুপুর দুইটার দিকে মাওলানা ইব্রাহিম ও মাস্টার জুবায়ের সহ দুইজনকে আটক
করে এবং ২০০০০০ ক্যত করে খুজেছে তাদের মুক্তির জন্য।
এছাড়া নাসাকা বাহিনী কাওয়ার বিল থেকে বাঙালীবাজার যাওয়ার সময় তিনজন গ্রামবাসীকে গ্রেফতার করে,তারা নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে বের
হয়েছিলেন।
বুতিদংঃ
গতকাল বুতিদং এ পুলিশ এর সাথে স্থানীয়দের বৈঠক হয়,এবং এর পর পুলিশ ১০ জন গ্রামবাসীকে গ্রেফতার করে যারা ইউএসডিপি এর সদস্য।এদের
মধ্যে ছিলেন,ইউএসডিপি এর সভাপতি সেলিম,সাধারন সম্পাদক,নুর আহমেদ,সদস্য নুরআহমেদ,গুরাফুতু,আলি আহমেদ,কালা,ইসমাইল,আব্দুল্লাহ
ও আরো দুইজন।তাদেরকে পুলিশ ও আরএনডিপি নির্যাতন করে এবং বুতিদং স্টেশনে নিয়ে যায়।
এছাড়া ৪ দিন আগে বুতিদং এর ইউএসডীপি এর দুই সদস্য সিরাজের পুত্র মো নুর ও মাস্টার স মং এর পুত্র আজাদ কে পুলিশ গ্রেফতার করে।
বুতিদং জেলে প্রচুর রোহিঙা আটক আছেন যাদের মংডূ ও বুতিদং থেকে আনা হয়,এবং কোন আত্নীয়দের দেখা করতে দেওয়া হয় না,প্রতিদিন
৪০ জনকে সকালে নিয়ে গিয়ে মারধোর করা হয় এবং প্রায় ২-৩ জন করে মারা যান।তাদের দেহ আত্নীয়দের ফেরত দেওয়া হয় না এবং নিকটবর্তী
ইটভাটায় ফেলে দেওয়া হয়,অধিকাণশের মাত্র একজোড়া কাপড় আছে।
রোহিঙা নেতাদের একজন জানান,বার্মিজ কতৃপক্ষ এই রোহিঙাদের দুঃখ কষ্ট লাঘব করতে কিছু করছে না,এবং রোগী ও অন্যান্যরা প্রচন্ড মানসিক কষ্টে
আছেন,আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি এই ব্যাপারে।

Leave a Reply