মংডু ও রতিদং এর বর্তমান অবস্থা

কতৃপক্ষ বিভিন্ন এলাকা থেকে গরীব রাখাইনদের মংডুতে এনেছে এবং তাদের দক্ষিন মংডূতে নাসাকা ক্যাম্প সমূহে রাখা হয়েছে,জাতিসংঘ প্রতিনিধিদল যখন পুনরায় আসবে তখন নাসাকা এদের রাখাইন শরনার্থী হিসেবে দেখানোর চিন্তা করছে। মংডুর পুলিশ কর্মকর্তা রোহিঙ্গারা বাজার করে ফিরার সময় তাদের সবকিছু চিনিয়ে নেয়,এছাড়া রাখাইন নেতা,ভিক্ষ্য ও পুলিশ দোকানদারদের বলেছেন যে যাতে তারা রোহিঙাদের জিনিসপত্র বিক্রি না করে। সরকার ইচ্ছে করে এই দাঙা লাগিয়ে রোহিঙা ও রাখাইন এর জাতিগত দাঙা হিসেবে এটি প্রচার করতে চাচ্ছে।

মংডূতে বিশেষ কোর্টঃ সম্প্রতি আর্মি ও নাসাকা রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন জায়গা থেকে গ্রেফতার করে মংডু পুলিশ স্টেশনে চালান করছে,যেখানে বিশেষ আইন এ তাদের জেল জরিমানা করা হচ্ছে।উল্লেখ্য ১৪৮/৫০৬ ধারায় রোহিঙাদের আটক দেখানো হচ্ছে এবং বুতিদং এ এই আইন এ প্রায় ১৬৮ জন রোহিঙ্গা আটক আছেন। আর্মি নাসাকা ও পুলিশ রোহিঙ্গাদের মধ্যে স্বচ্ছল,শিক্ষিত ব্যক্তিদের বিনা অভিযোগে গ্রেফতার করছে এবং তাদের পুলিশ স্টেশন এ রাখা হচ্ছে। এছাড়া অনেকে গ্রামবাসী আজকাল আটক হবার ভয়ে না ঘুমিয়ে দিনাতিপাত করছে,অনেকে জঙ্গল ও ধান ক্ষেতে লুকিয়ে আছে এবং এই সুবিধা নিয়ে আর্মি ও নাসাকা রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষন করছে।এছাড়া তারা গ্রাম থেকে খাদ্যশস্য নিয়ে যাচ্ছে এবং গ্রাম জ্বালিয়ে দিচ্ছে।এছাড়া গ্রামবাসী খাদ্য সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে ,এছাড়া মংডূতে খাদ্য দূর্লভ হয়ে গিয়েছে রোহিঙ্গাদের জন্য। রোহিঙারা এই ভারী বর্ষনের সময় খোলা আকাশের নিচে বাস করছে,এছাড়া তাদের আশ্রয় দরকার,গ্রামসমূহে বিভিন্ন অসুখ ছড়িয়ে পড়ছে এবং মেডিক্যাল টিম দরকার এই জন্য। এছাড়া হৃদরোগী ও ডায়বেটিস রোগীরা ওষুধের সমস্যায় পড়েছেন এবং তারা দোকান বন্ধ হওয়ার কারণে কিনতে পারছেন না এবং তাদের জীবন এখন ক্ষতির সম্মুখীন। আটকঃ মিসেস সো মি মি(৩০) ও তার বোনকে পুলিশ আজ সকালে বিনা কারণে গ্রেফতার করেছে। এছাড়াএ হাবিব গ্রাম থেকে রিয়াজ উদ্দিন ও সেজার থেকে এনাম উল্লাহ কে গ্রেফতার করা হয় যখন তারা আত্নীয়ের ঘরে যাচ্ছিল। এছাড়া গত ২১ জুন রতিদং এর ২৫ জন রোহিঙা যাদের মধ্যে শিক্ষিত ও নেতারা আছেন তাদের গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া অং পিন গ্রামের ১০ বছরের উপরের সব রোহিঙা যুবককে স্কুলে আটকিয়ে রাখা হয়েছে এবং তাদের খাবার ও পানি দেওয়া হয় নি।

নিহত ও আহতঃ গত ২২ জুন বেগনা গ্রামের ইদ্রিস এর কন্যা নুর ফাতেমাকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে এছাড়া নুর বেগম নামে তার আরেকজন কন্যাকে পুলিশ নির্যাতন করলে সে মারা যায়। হাশিম উল্লাহ ও ঈদ্রিস যারা বারসাওরা গ্রামের বাসিন্দা তাদের রাখাইনরা জবাই করে হত্যা করে। এছাড়া শিলকিলি গ্রামের একটি খালে মৃতদেহ ভাসতে দেখা গেছে যা ৮ নং এরিয়ার পাশে অবস্থিত।গ্রামবাসীরা উক্ত মৃতদেহগুলো ৩ দিন আগে আটক কৃত দের বলে বিশ্বাস করছে। এছাড়া ১৫০ জন রোহিঙ্গা নিহত ও আরো ১৫৭ জন আহত হয়েছে যখন রাখাইনরা কু দং পুলিশ স্টেশন এর কর্মকর্তাদের সাথে মিলিত হয়ে রোহিঙা গ্রাম অনকপিন এ হামলা চালায়, উক্ত গ্রামে প্রায় ৫০০০ রোহিঙা বাস করে,রোহিঙ্গারা আড়াই ঘন্টা হামলাকারীদের আটকিয়ে রাখে।খবর পেয়ে একদল আর্মি উক্ত স্থানে চলে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এছাড়া কদং পুলিশ অফিসার দুইজন রোহিঙ্গা গ্রামবাসীকে অনকপিন গ্রাম এ হত্যা করে ,এবং লাশ ফেলে রাখে,এর পরদিন ভোরে লাশ নিয়ে যায় শহর প্রশাসন থেকে এসে,এছাড়া তারা ২৫ জনকে আটক করে,পরে লাশ ফেরত দেওয়া হয় গুলি বের করে ফেলে। এছাড়া কালা মিয়া নামের একজন রিকশা চালককে উগ্র পন্থী রাখাইনরা মারধোর করে মংডূ ফুটবল মাঠে হত্যা করে,যখন সে তার দিনের কাজের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

Leave a Reply