বোটে করে কিছু রোহিঙা শরনার্থী বাংলাদেশ এ প্রবেশ করেছে

রোহিঙা শরনার্থীরা বোটে

টেকনাফ,বাংলাদেশ।বাংলাদেশ কতৃপক্ষের দৃষ্টি এড়িয়ে কিছু রোহিঙা শরনার্থী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে যারা গত সোমবার থেকে নাফ নদীতে ভাসমান অবস্থায় ছিল।তারা আকিয়াব থেকে পালিয়ে বাংলাদেশ অভিমুখী যাত্রা শুরু করেছিল নিজেদের প্রান বাঁচাতে।
প্রায় ১৩টি বোটে ২০০০ এর বেশী রোহিঙা শরনার্থী নাফ নদীতে ভাসমান অবস্থায় আছেন,তারা বার্মা থেকে
জাতিগত দাঙা থেকে বাঁচার জন্য পালিয়ে আসেন।উল্লেখ্য,আরাকানে আকিয়াব ও মংডূতে রোহিঙা গ্রামসমূহ জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং অনেক রোহিঙা পুলিশ,লুনঠিন ও রাখাইনদের এর হাতে মারা যান।
টেকনাফ এর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিন জানান,কিছু বার্মিজ নাগরিক(রোহিঙারা) গোপনে
বিজিবি ও কোস্ট গার্ড এড়িয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
বিভিন্ন সুত্র অনুযায়ী,দাঙার মূখে পড়া ৩৯ রোহিঙা যাদের মধ্যে নারী ও শিশূও আছে ,সেন্ট মার্টিন এ প্রবেশ করেছে এছাড়া আরো ২০০ জন শাহ পরীর দ্বীপে গতকাল রাত্রে প্রবেশ করেছে।
এছাড়া,কিছু রোহিঙা শরনার্থী খাদ্য সমস্যাত ভুগছেন এবং অনেক আহত ব্যক্তি স্থানীয় এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন যেখানে তারা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
স্থানীয় একটি সুত্র জানায়,যে সমস্ত শরনার্থী শাহ পরীর দ্বীপে অবস্থান নিয়েছে তাদের মধ্যে ৫ রোহিঙা তরূনীকে পাওয়া যাচ্ছে না।স্থানীয় কিছু যুবক তাদের অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।এছাড়া খারাপ আবহাওয়ার কারণে অনেক রোহিঙা ভাসমান অবস্থায় আছে।
স্থানীয় ব্যক্তি আরো জানান,অধিকাংশ শিশূ ডায়রিয়া,নিউমোনিয়া,জ্বর ও কফ এ আক্রান্ত এবং চিকিৎসা সুবিধা না পেলে তাদের অবস্থা আরো ভয়াবহ হবে।উল্লেখ্য ভারী বর্ষনের কাওরণে আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়ের সাহায্য ও খাবার সেখানে পৌছানো যায় নি।
বিজিবি এর একজন জনানা,বিজিবি অনেক আলো সংকেত দেওয়ার পরেও কোন সাড়া পান নি,এবং বোটের কাছে যাওয়া তাদের পক্ষে অনেক কষ্টকর হয়ে যায় কারণ এটি নড়চড় করছিল।যখন তারা সেখানে গিয়ে পৌছায় তারা ট্রলার এ কাউকে দেখতে পান নি।
এরপর ইঞ্জিনরুমে একজন বিজিবি সদস্য দেখতে গেলে অবাক হন এই দেখে যে সেখানে একটি বাচ্চার হাতের নড়াচড়া।
বিজিবি এর মেজর সাইফুল জানান,”এটি একটি নতুন শিশু ছিল”,তাদের উক্ত বোট স্থিতিশীল রেখে উক্ত শিশুকে উদ্ধার করতে কষ্ট হয়েছে।প্রায় আড়াই ঘন্টার চেষ্টা শেষে ঐ শিশূটি উদ্ধার করা হয়।
সাইফুল আরো জানান,”উক্ত শিশু ডাকাতদের হাতে হামলার স্বীকার হন এবং বোটের যাত্রীরা শিশুটি পরিত্যাগ করে চলে যায়।”
বিজিবি ও স্থানীয়রা শরনার্থীদের খাদ্য,পানি ও স্যালাইন প্রদান করে এবং বাংলাদেশে আটকিয়ে রাখে খারাপ আবহাওয়ার জন্য,পরে বিকাল ৫টার দিকে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়।”
একজন রোহিঙা কান্না ভরা চোখে বিজিবি ও কোস্ট গার্ডকে অনুরোধ করে তাদের নামতে দেওয়ার জন্য,কিন্তু বিজিবি তাদের খাদ্য,পানি ও তেল দিয়ে ফেরত পাঠায়।
মঙলবারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি ঢাকাতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন যে,”মিয়ানমার থেকে নতুন শরনার্থী আসতে দেওয়া উচিত না।”
এছাড়া ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশ সরকারকে অনুরোধ করেন যাতে তারা মিয়ানমার শরনার্থীদের প্রবেশ করতে অনুমতি দেন।

Leave a Reply