আর্মি নিয়ন্ত্রন নেওয়ার পরেও হত্যা অব্যাহত আরাকানে

মংডু,আরাকান।আরাকান রাজ্য বিশেষ করে মংডূ ও বুতিদং প্রেসিডেন্ট থিন সেন এর জরুরী অবস্থা ঘোষনার পরেও হত্যা চলছে বলে জানান টেকনাফ এর একজন।
গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে নাসাকা একজন রোহিঙাকে হত্যা করে যখন সে বাইসাইকেলে এ করে রাস্তা পার করছিল।
নিহত ব্যক্তিকে আযাউ এর পুত্র সৈয়দ করিম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।তার বাড়ি মংডুর অহ দং গ্রামে এবং মৃতদেহটি নিতে গেলে গ্রামবাসীদের গুলির ভয় দেখানো হয়।
এছাড়া বিভিন্ন সুত্রানুযায়ী,রাত ১২টার দিকে একদল নাতালা গ্রাম বাসী রোহিঙা অ দং গ্রামে গিয়ে রোহিঙাদের ঘরবাড়ি ও মসজিদ ভাংচুর এবং আগুন জ্বালিয়ে দেয়,গ্রামবাসীদের একজন এটা দেখে
সাহায্যের জন্য চিৎকার করলে,গ্রামবাসীরা সেখানে ছূটে যান এবং আগুন নিভিয়ে দেন।
এছাড়া,১২টা৩০ এর দিকে একদল নাসাকা উক্ত গ্রামে গিয়ে গ্রামবাসীদের উপর গুলি বর্ষন করলে আব্দুল হামিদ ও আরেকজন মারা যান,এছাড়া সেলিমা খাতুন(৪০) গুরুতর আহত হন যখন তিনি গত রাতে ঘুমাচ্ছিলেন।
এছাড়া মংডু শহরে সাড়ে ১১টার দিকে রশিদ আহমেদ এর কন্যা খুরশিদা বেগম(১৪) যিনি সে জার গ্রাম এর বাসিন্দা তার পায়ে গুলি লাগার ফলে গুরুতর আহত হন।
এছাড়াআ,গত পরশূ নাতালা গ্রামবাসীরা মংডু দক্ষিন এর যাওমাতেত ,তারাকুন্দন ও থান্দা গ্রামে হামলা চালায়,কিন্তু রোহিঙা গ্রামবাসীরা যখন একত্রিত হয় তখন তারা পালিয়ে যায়।
এটি জানা যায়,বুতদং এ গতকাল  রোহিঙ্গা ও রাখাইনদের মধ্যে বৈঠক হয় যা আর্মি আয়োজন করে।
এছাড়া গতকাল রাত্রে একদল মানুষ নিয়ে একটি বোট সেন্টমার্টিন এ পৌছায় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার জন্য কিন্তু বাংলাদেশ সরকার তাদের নামতে দেয় নি,সেখানে ৩৯ জন মানুষ ছিল এবং শিশু-নারী সহ তারা আকিয়াব থেকে পালিয়ে আসে কারণ তাদের গ্রাম  জালিয়াপাড়াতে রাখাইনরা হামলা চালায়,এছাড়া বার্মিজ নেভীর রকেট হামলায় নাফ নদীতে একটি বোট ডুবে যায়।রাখাইন,পুলিশ,দাঙ্গাপুলিশরা রাখাইনদের সাথে  রোহিঙা গ্রামসমূহে হামলা চালায়,এবং অনেকে সমুদ্রে ঝাপিয়ে পড়ে জীবন বাচানোর জন্য।
আকিয়াব,জালিয়াপাড়া,রোহিঙা পাড়া,নাজির পাড়া,ওয়ারল্যাস পাড়া,পুরান পাড়া,ওয়াগুন পাড়া,বারসারা,সান্তাওলি পাড়া,কানপু পাড়া রাখাইনরা পুলিশ, দাঙা পুলিশ এর সহায়তায় পুড়িয়ে দেয়,সমস্ত মৃতদেহ দায়বিন এ আনা হয়,যা উত্তর নাজিরপাড়ার পাশে,পুলিশ ও রাখাইনরা পেট্রোল দিয়ে উক্ত মৃতদেহ পুড়িয়ে দেয়।
ইউএন প্রধান বান কি মুনের বিশেষ উপদেষ্টা বিজয় নাম্বিয়ার  ,রেংগুন থেকে মুসলিম ধর্মীয় নেতা ও বার্মিজ সীমান্ত মন্ত্রী থিন তায় এর সাথে রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিতওয়ে তে যান।
এছাড়া নাম্বিয়ার মংডুতেও বিকালে পরিদর্শোন করেন যেখানে শুক্রবার এ নতুন করে সহিংসতা শুরু হয়েছে।
ইউএন এর স্থানীয় ও মানবাধিকার সমন্বয়ক অশোক নিগাম জানান,”আমরা এখানে রাখাইন রাজ্যে যতটুকু সম্ভব সাহায্য ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করছি।”
এছাড়া,ইউএন মংডু থেকে তাদের অফিস তুলে নিয়েছে,যেখানে অধিকাংশ রোহিঙা মুসলিম বাস করে।
বাংলাদেশ এর আর্ন্তজাতিক আইনের প্রতি দায়বদ্ধতা আছে ,তারা নিরাপত্তার জন্য সীমান্ত এলাকা থেকে ছুটে আসা মানুষদের আশ্রয় দিতে বাধ্য।
এছাড়া তিনি বিদেশী সরকারসমূহের কাছে দাবি জানান যাতে রোহিঙাদের যর্থার্থ সাহাযত প্রদান করা হয়।
আরাকান রাজ্যের রোহিঙ্গারা এখন খাদ্যাভাবে ভুগছেন এবং তাদের কোন জলাধার এমনকি মেডিক্যাল সুবিধাও দেয়া হচ্ছে না ।এছাড়া জরুরী অবস্থার জন্য তারা মার্কেট থেকে কিছু কিন্তে পারছেন না কারণ সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা কারফিউ চলছে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.